cognative science

কগনিটিভ ডিজওনেন্স থিওরি

09/22/2019

ভাব প্রকাশ, চিন্তার প্রসার বা প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তা যাই বলি না কেন সব জায়গাই  যোগাযোগ প্রয়োজন। ভাব প্রকাশের ভাষা ও চিন্তা ভাবনা একেক জনের একেক রকম। প্রতিটি মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাও ভিন্ন। মানুষের এই ভিন্নতা তৈরি হয় তার পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে। পূর্বের জ্ঞান, বিশ্বাস, মূল্যবোধ মানুষটির আচরণ, মনোভাব, অভ্যাস ও চাহিদার ভিন্নতা তৈরি করে। এবং তখন এক ধরণের সমস্যা তৈরি হয়। দেখা যায়, মানুষ তার পূর্বের অভিজ্ঞতার সাথে ভিন্ন কোন বিষয় খুব সহজে নেয় না। তার মানে স্বভাবগত ভাবেই নতুন বিষয় গ্রহণ করতে চায় না। নতুন ধারণার গ্রহণের ক্ষেত্রে  মানষিকভাবে অস্বস্তিতে ভুগে। যার ফলে হতাশা ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পরে। এর ফলে কখনো কখনো তার আচরণ আক্রমণাত্মক হযে ওঠে এমনকি সংঘর্ষ বাঁধে। যোগাযোগবিদরা এই সংকট সমাধানে “কগনিটিভ ডিজওনেন্স” থিওরি তৈরি করেন।[i][ii]

লিওন ফেস্টিংগার কগনিটিভ ডিজওনেন্স থিওরির ধারণা প্রথম দেন। পরে এই থিওরির উপর ভিত্তি করে আরো অনেক থিওরি তৈরি হয়। থিওরিটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক। যা যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজে লাগে। ফেস্টিংগার ১৯৫৭ সালে এই ধারণা সবার সামনে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, মানুষ তার জ্ঞানের ধারাবাহিকতা দিয়ে একধরণের অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তা দিয়ে বাস্তব পৃথিবীতে চলতে চায়। ফলে, অভিজ্ঞতার সাথে পুরোপুরি বিপরীত কিছু সে গ্রহণ করতে চায় না। সেসব তথ্য এড়িয়ে যায়। যখন জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার সাথে ভিন্ন কিছু তথ্য পায় তখন সেটা তাকে হতাশ করে। আবার কখনো ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভুগে। এর ফলে, জ্ঞানের যে পার্থক্য ছিল তা থেকে যায়। এভাবে মানুষের সাথে মানুষের বিচ্ছিন্নতা বাড়ে।[iii]

বর্তমান সময়ে এসেও এই থিওরির গুরুত্ব অনেক। এই থিওরি নিয়ে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি গবেষণা হচ্ছে, “Cognitive Dissonance Theory After 50 Years of Development”। টেক্সাস এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের ইডি হারমন-জোনস এবং কিনডি হারমন-জোনস থিওরিটি নিয়ে গবেষণা করেন। প্রথমেই তারা থিওরির গাণিতিক ভাবে ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় দেখা যায়, কোন একজন মানুষের পূর্বের জ্ঞানের সাথে বর্তমান জ্ঞানের মিল না হলে ডিজওনেন্স হয়। এটি সূত্র দিয়ে ব্যাখ্যা করেন এভাবে, কগনিশন=ডি/(ডি+ সি)। এখানে, ডি হচ্ছে কগনিশন ডিজওনেন্ট এর সমগ্র এককের সাথে নির্দিষ্ট কোন কগনিশন। সি হচ্ছে, কগনিশন কনসোনেন্ট এর সকল এককের সাথে একক নির্দিষ্ট কগনিশন।[iv] এখানে মূলত কগনিশনের সাথে ডিজওনেন্স ডিগ্রি বুঝানো হয়েছে। কি ধরণের কগনিশনের ফলে কতটুকু ডিজওনেন্ট হতে পারে তার ব্যাখ্যা। ধরা যাক, কোন একজন ব্যক্তি তার পূর্বের জ্ঞানকে বিশ্বাসের পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তিনি বিশ্বাসের বিপরীত নতুন তথ্য পেলে যেভাবে নিবেন আর যিনি জানেন কিন্তু বিশ্বাস পর্যায়ে এখনো নেয়নি তার ডিজওনেন্ট এর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কগনিশন যখন বিশ্বাস, অভ্যাস, স্বভাব, মূল্যবোধ পর্যায়ে চলে যায় তখন তার ডিজওনেন্স এর মাত্রা বেশি হয়। এই থিওরি দিয়ে বিভিন্ন বাদ (ইজম) বিশ্লেষণ করা খুব সহজ। উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে কগনিশন বিশ্বাসের চরম পর্যায়ে চলে যায় বলেই ডিজওনেন্ট বা নেতিবাচক প্রভাব বেশি হয়। তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

সত্তর দশকের শুরু থেকে এই থিওরির উপর ভিত্তি করে নতুন কিছু থিওরি তৈরি হয়। কগনিটিভ ডিজওনেন্স যেভাবে মনোস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলে এবং কখনো তা ভায়োলেন্সের দিকে চলে যায়। ফলে- এমন কিছু থিওরি দরকার, যার ফলে মানুষটির বিদ্যমান সমস্যার সমাধান হবে। সেসব থিওরির মাঝে রয়েছে- এরনসোন্স’র “সেলফ কনসিসটেন্সি থিওরি” (১৯৬৮[v], ১৯৯৯[vi]), স্টিলি’র “সেলফ এফারমেশন থিওরি” (১৯৮৮[vii]),  কুপার এবং ফেজিও’র “নিউ লুক এট ডিজওনেন্স” (১৯৯৪[viii]) থিওরির আবিস্কার হয়।

অজানা তথ্য জানতে ব্যক্তিগত যোগাযোগ প্রয়োজন

“সেলফ কনসিসটেন্সি”-তে বলা হয়, মানুষ তার কগনিশন নিয়ে ইতিবাচক থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ডিজওনেন্স এর ফলে খারাপ কোন অভিজ্ঞতা তৈরি হওয়া। ফলে, আচরণ পরিবর্তন বা অভ্যাস পরিবর্তন এর জন্য ওই ব্যক্তির সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ জরুরী। এককভাবে তার গল্প শোনা, তার ইচ্ছে বা অনিচ্ছের কথা শোনা বেশি কাজে দেয়। এতে তার বাধা, ট্রিগারিং ফ্যাক্টর, মোটিভেশন জানা যায়। সকল কিছু জানা গেলে তার আচরণ পরিবর্তন করা সহজ হয়। বিহেভিওর চেঞ্জ কমিউনিকেশন, ইনফরমেশন এডুকেশন এন্ড কমিউনিকেশন এর ফ্রেমওয়ার্কসমূহ এক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। পরবর্তীতে এই যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় এক্সপেরিমেন্ট করেও দেখা হয়েছে।[ix][x]

দূরত্ব নয়; পাশে থাকা জরুরী

এই ধারণা প্রথম সামনে নিয়ে আসেন স্টিলি “সেলফ এফারমেটিভ” থিওরির মাধ্যমে। কোন ব্যক্তি যখন কোন ধারনা বা বিশ্বাস লালন করেন তখন তার ভেতর একধরণের ছবি আঁকা হয়ে যায়। তার এই বিশ্বাসকে সম্মানের মধ্য দিয়েই তাকে বিশ্বাস থেকে সরিয়ে আনতে হবে। তার বিশ্বাসের জন্য তাকে দূরে ঠেলা নয় বরং পাশে থাকতে হবে। এতে তার ডিজওনেন্স এর মাত্রা কমে যাবে। এবং সেও একটা সময়ে অন্য মত, ধারণা, বিশ্বাসকে সম্মান জানাবে। গ্রহণ করবে। তার সাথে থেকে বিনয়ের সাথে কগনিশন পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। পরে অবশ্য ম্যাকওয়েভার, সাইমন, গ্রিনবার্গ ও ব্রেম (১৯৯৫) সালে স্টিলির এই থিওরি বাস্তবে কতটা কার্যকর তা নিয়ে গবেষণা করেন।[xi] এছাড়াও এরনসন, কোহেন, নেইল (১৯৯৯) থিওরিটি নিয়ে কাজ করেছেন।[xii]

অজ্ঞতা মানুষকে আচ্ছন্ন করে কুসংস্কার আর অযৌক্তিক আচরণের বলয়ে

কিছু মানুষ এমন আছে যারা কখনোই চায় না তাদের বিশ্বাস পরিবর্তন হোক। তারা সাধারণ কিছু জ্ঞানের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, এবং সেগুলোই বিশ্বাস করে। ফলে- তাদের মাঝে কুসংস্করতা তৈরি হয়। তার সীমাবদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে জীবন চালায় এবং কখনোই এই জ্ঞানের বাহিরে যেতে চায় না। ‘নিউ লুক’ থিওরিতে তাত্ত্বিক ডিজওনেন্স নিয়ে এই ব্যাখ্যা দেন। তাত্ত্বিক বিশ্বাস করেন, কগনিশনের জন্য জ্ঞানের অধারাবাহিকতা বা নতুন জ্ঞানে আগ্রহ না থাকা মূলত দায়ী। কারণ অনেকেই আছে তারা ধরে নেন, জ্ঞানের সকল শাখায় তার বিচরণ না করলেও চলবে। ফলে- তার জানার ও মানার আগ্রহ ও ইচ্ছে কম থাকে। তাত্ত্বিক তাই তার না জানার কারণ হিসেবে তার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাত্ত্বিকরা যে ৪টি জিনিস মানুষের মাঝে দেখেছেন

কগনিটিভ ডিজওনেন্স নিয়ে যেসকল তাত্ত্বিকরা কাজ করেছেন, তারা মানুষের মাঝে ৪ টি জিনিস দেখেছেন। একদল মানুষ আছে, যাদের  মানসিকতা পরিবর্তন এর ইচ্ছে কম বা পরিবর্তন করতে চায় না। ২য় দলটির মানসিকতা পরিবর্তন সম্ভব তবে কোন বিষয়গুলো তার মানসিকতা পরিবর্তনে ট্রিগার করবে তা গবেষণা দিয়ে বের করা যায়নি। এক্ষেত্রে, নতুন ধারণা প্রসারের ক্ষেত্রে বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে টার্গেট অডিয়েন্স এর উপর গবেষণা করে সেসকল মানুষের চাহিদা, সীমাবদ্ধতা, মোটিভেশন ও ট্রিগারিং ফ্যাক্টর বের করে নিতে হবে। তাহলে, যোগাযোগে ভালো রেজাল্ট আসবে। এছাড়াও আরো একদল মানুষ আছে যাদের খুব বেশি ডিজওনেন্স হয় না। ফলে- এদের ব্যাপারে দুশ্চিন্তা কম থাকে। এসকল মানুষকে ভালোকিছু দেওয়া হলে এবং সেবিষয়ে সঠিক ধারণা দিলে তারা এমনিতেই সেসব গ্রহণ করে। এছাড়াও কিছু মানুষ আছে, যাদের প্রথম প্রথম ডিজওনেন্স হলেও পরে নিজ থেকেই পরিবর্তন এর জন্য চেষ্টা করে। এসব মানুষের অন্য কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। বরং তারা একটা কাজের পর নিজেরাই ভাবতে থাকে, কোথাও আমার ভুল হচ্ছে বা হয়তো আমারই ভুল।[xiii]

কোথায় নেই কগনিটিভ ডিজওনেন্স?

কগনিটিভ ডিজওনেন্স থিওরি যোগাযোগের সকল ক্ষেত্রে কাজে লাগে। যেহেতু সকল কিছুতে যোগাযোগ প্রয়োজন ফলে সব কিছুতেই এই থিওরির গুরুত্ব রয়েছ। অর্থনীতিতে সকলের অবদান তথা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি নিশ্চিত করতে মানসিক পরিবর্তন[xiv],স্বাস্থ্য সচেতনতায় অভ্যাসের পরিবর্তন বা কর্পোরেট সেবা, পন্য ব্যবহারে প্রভাবিত বা সন্তুষ্ট করা[xv] সহ মানসিক পরিবর্তনের[xvi] সকল ক্ষেত্রে এই তত্ত্বটি কার্যকর। এছাড়াও কোন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব দিতে গেলেও এই তত্ত্বের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধী করা যায়। কগনিটিভ ডিজওনেন্স এর ক্ষেত্রে অনেক ধরণের টুলস ব্যবহার হয়ে এর মাঝে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী টুলস হচ্ছে গণমাধ্যম[xvii]

কর্মস্থলে সুন্দর পরিবেশ তৈরিতে যা প্রয়োজন

কোন একটি প্রতিষ্ঠানে সুন্দর কাজের সংস্কৃতি তৈরি করতে তিনটি কাজ করা যেতে পারে। ওই প্রতিষ্ঠানটির ফাউন্ডার বা ঊর্ধ্বতনরা কর্মের পরিবেশ সুন্দরভাবে সাজাতে এই কাজগুলো করতে পারে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের কাছে আদর্শ হিসেবে তৈরি করা। এমনকিছু করা যেন তারা কর্মস্থলকে নিদর্শন হিসেবে গল্প করে। তাদের মাঝে প্রতিষ্ঠান নিয়ে সবধরণের আত্মতুষ্টি যেন থাকে। দ্বিতীয়ত, কর্মীদের বিশ্বাস এবং মূল্যবোধকে সম্মান দেওয়া। এক্ষেত্রে, কর্মীদের ভেতরের যে সক্ষমতা আছে তা দিয়ে কাজ করবার সুযোগ দেওয়া। কাজের পর কোথাও কোথাও ভুল হলো তা ধরিয়ে দেওয়া। এতে, কর্মীরা যেমন সহজে কাজ করতে পারে, একইসাথে ভুলও বুঝতে পারে। সেক্ষেত্রে, তার কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সেসব কাজ ও দায়িত্ব কোয়ালিটি সম্পন্ন হয়। তৃতীয়ত, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে তার মূল লক্ষ্য কি তা পূরণ করতে মোটিভেট করা। এক্ষেত্রে, প্রত্যেকের মাঝে এমন আত্মিক বন্ধন তৈরি করা যেন নিজের মনে করে কাজ করে। এতে করে প্রতিষ্ঠানের যেমন লক্ষ্য পূরণ হয় তেমনি কর্মীরাও একধরণের আত্মতৃপ্তি পায়।[xviii]

ডিজওনেন্স দূর করতে কিছু কার্যকর মডেল

স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্ষেত্রে বিহেভিওরাল লার্নিং থিওরি, সোশ্যাল কগনিশন থিওরি, হেলথ বিলিভ মডেল, রিজন্ড একশন থিওরি বা প্লান্ড বিহেভিওর থিওরি, ট্রান্সথিওরিটিক্যাল মডেল, সোশ্যাল ইকোলজিক্যাল মডেল, সোশ্যাল মার্কেটিং ইত্যাদি মানসিক পরিবর্তনে কাজ করে।[xix] যেমন- এইডস প্রতিরোধ, সেনিটেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিহেভিওর চেঞ্জ কমিউনিকেশন[xx], ইনফরমেশন এন্ড এডুকেশন কমিউনিকেশন[xxi] ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এভাবে অর্থনীতি, সোশ্যাল সাইকোলজি, মার্কেটিং কমিউনিকেশন স্ট্রেটেজির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক, মডেল দিয়ে মানসিক পরিবর্তন সম্ভব। কগনিটিভ ডিজওনেন্স কমানো সম্ভব। ফলে, মডেল পড়া হলে কাজ অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। কারণ- বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এসব মডেল ও থিওরি দিয়ে ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে আর এখনো হচ্ছে। এসব মডেল পড়ার সাথে সাথে ‘প্রথাগত যোগাযোগের সাথে আধুনিক যোগাযোগের পার্থক্য’ পড়ে নেওয়া গেলে যোগাযোগ নিয়ে কাজ করা পুরোপুরি সহজ হয়ে যাবে।

-হামিমুর রহমান ওয়ালিউল্লাহ


[i] Festinger, L. (1957). A Theory of Cognitive Dissonance. California: Stanford University Press.

[ii] Festinger, L. (1962). “Cognitive dissonance”. Scientific American. 207 (4): 93–107.

[iii] Festinger, L. (1957). A Theory of Cognitive Dissonance. California: Stanford University Press.

[iv] Sakai, H. (1999). A multiplicative power function model of cognitive dissonance: Toward an integrated theory of cognition, emotion, and behavior after Leon Festinger. In E. HarmonJones, & J. Mills (Eds.), Cognitive dissonance: Perspectives on a pivotal theory

[v] Aronson, E. (1968). Dissonance theory: Progress and problems. In R.P. Abelson, E. Aronson, W.J. McGuire, T.M. Newcomb, M.J. Rosenberg & P.H. Tannenbaum (Eds.), Theories of cognitive consistency: A sourcebook (pp. 5–27). Chicago: Rand McNally.

[vi] Aronson, E. (1999). Dissonance, hypocrisy, and the self-concept. In E. Harmon-Jones & J. Mills (Eds.), Cognitive dissonance: Progress on a pivotal theory in social psychology (pp. 103–126). Washington, DC: American Psychological Association.

[vii] Steele, C.M. (1988). The psychology of self-affirmation: Sustaining the integrity of the self. In L. Berkowitz (Ed.), Advances in experimental social psychology (Vol. 21, pp. 261–302). San Diego, CA: Academic Press.

[viii] Axsom, D., & Cooper, J. (1985). Cognitive dissonance and psychotherapy: The role of effort justification in inducing weight loss. Journal of Experimental Social Psychology, 21, 149–160

[ix] Beauvois, J.L., & Joule, R.V. (1996). A radical dissonance theory. London: Taylor and Francis.

[x]Beauvois, J.L., & Joule, R.V. (1999). A radical point of view on dissonance theory. In E. Harmon-Jones & J. Mills (Eds.), Cognitive dissonance: Progress on a pivotal theory in social psychology (pp. 43–70). Washington, DC: American Psychological Association.

[xi] Harmon-Jones, E., Brehm, J.W., Greenberg, J., Simon, L., & Nelson, D.E. (1996). Evidence that the production of aversive consequences is not necessary to create cognitive dissonance. Journal of Personality and Social Psychology, 70, 5–16.

[xii]Aronson, J. Cohen, G., & Nail, P.R. (1999). Self-affirmation theory: An update and appraisal. In E. Harmon-Jones & J. Mills (Eds.), Cognitive dissonance: Progress on a pivotal theory in social psychology (pp. 127–148). Washington, DC: American Psychological Association.

[xiii] Harmon-Jones, E., & Mills, J. (1999). Cognitive dissonance: Progress on a pivotal theory in social psychology. Washington, DC: American Psychological Association.

[xiv] George A. Akerlof and William T. Dickens, The American Economic Review Vol. 72, No. 3 (Jun, 1982), pp. 307-319

[xv] Paul G. Patterson, Lester W. Johnson, Richard A. Spreng, (December, 1996), Modeling the Determinants of Customer Satisfaction for Business-to-Business Professional Services

[xvi] EWART E. SMITH, THE POWER OF DISSONANCE TECHNIQUES TO CHANGE ATTITUDES, Public Opinion Quarterly, Volume 25, Issue 4, WINTER 1961, Pages 626–639

[xvii] Journal of Marketing 67(3):47-62 · July 2003

[xviii] Edgar H. Schein, (2010), Organizational Culture and Leadership (pp. 23-32).

[xix] Baranowski, T. , Cullen, K. W., Nicklas, T. , Thompson, D. and Baranowski, J. (2003), Are Current Health Behavioral Change Models Helpful in Guiding Prevention of Weight Gain Efforts?. Obesity Research, 11: 23S-43S.

[xx] Karen Glanz, Barbara K. Rimer, K. Viswanath, (2008),  Health Behavior and Health Education: Theory, Research, and Practice

[xxi] WHO, 1995, available from WHO Regional Office for South-east Asia, Health Education Communication