শারিরীক সম্পর্কে সাড়া না পেলে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশী সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে

জানুয়ারি ৮, ২০২৪

গবেষণায় দেখা গেছে, যৌনতায় মৌনতা অবলম্বনের কারণে সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়তে পারে। একটি সুস্থ এবং সাবলীল সম্পর্কের জন্য যৌনসম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন নারী পুরুষের শারিরীক সম্পর্কের মধ্যে যেকোনো একজন যৌনতার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ প্রকাশ করে, তখন এটি সম্পর্কের মধ্যে বিষণ্ণতা, রাগ, হতাশা এবং অবিশ্বাসের মতো নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে। যৌনসম্পর্ক নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে সম্পর্কের মধ্যে আসে অস্থিরতা এমনকি কখনো কখনো তা চুড়ান্তেও পৌঁছাতে পারে।

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী যদিও মনে করা হয় যৌনতার ব্যাপারে পুরুষরা বেশী সংবেদনশীল কিন্তু গবেষণা বলছে ঠিক উল্টোটি।

সাধারণতঃ যৌনজীবন কার কতটা ভালো সেটার উপর ভিত্তি করে সম্পর্কের ভালোমন্দ বিচার করা হয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় ইউরোপের সাতটি দেশের বিবাহিত এবং সহবাসকারী দম্পতিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে যেসকল দম্পতিরা ঘন ঘন যৌন মতবিরোধের সম্মুখীন হয়েছেন তাদের সম্পর্ক বিচ্ছেদের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পাওয়া গেছে।

২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ হাজার মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যৌন মতপার্থক্যের কারণে সম্পর্ক হুমকীর সম্মুখীন হয়েছে এবং এর ফলে বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। তাদের মধ্যে পুরুষদের চেয়ে নারীদের ভূমিকা ছিল ১৩% বেশি, যেখানে পুরুষ মাত্র ৫%।

গবেষকরা বলেন পুরুষদের শারিরীক মিলনে অনীহার কারণে নারীরা প্রায়ই বিচ্ছেদের কথা ভাবতে বাধ্য হয়। টাকা-পয়সা বা পরিবারের অন্যান্য ঝামেলার মতো কোন সমস্যা না থাকলেও যৌনতাজনিত কারণেও সম্পর্ক বিচ্ছেদ হতে পারে।

এ ধরনের সংবেদনশীল গবেষণায় সবসময় চ্যালেঞ্জ থাকে। কারণ রিয়েল টাইম ইউজারদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয় যেখানে “বিচ্ছেদের প্রবণতা” বা “যৌন মতানৈক্য” এর মতো জটিল একটি বিষয় কেন ঘটছে তা কয়েকটি প্রশ্ন দিয়ে বোঝা কঠিন। ভবিষ্যতে গবেষণায় ভালো ফল পেতে আরো বিশদভাবে উভয় পক্ষের মতামত নেওয়া, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ঝামেলা মেটানোর পদ্ধতি এবং যৌন মতানৈক্য কীভাবে সম্পর্কের স্থিতির ওপর প্রভাব রাখে তা সংযোজন করার পরিকল্পনা করছে ।

ইমরান হোসেন, নিলীম আহসান


তথ্যসূত্র:

Dominika Perdoch Sladká & Martin Kreidl (2023) The Link Between Sexual Disagreements and Separation Proneness: Differences Between Men and Women in a Culturally Diverse Sample, The Journal of Sex Research, DOI: 10.1080/00224499.2023.2270508