mental-health-relates-to-love

“ফিলিং লাভ”- প্রতিদিন ভালো থাকার মন্ত্র!

11/29/2019

কবি এবং গীতিকাররা তাদের প্রতিটি ভালোবাসার গান, কবিতার লাইনে বলেছেন ভালোবাসতে। শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু সুন্দর করা যায়।   অন্যদিকে  পেন স্টেট ইনস্টিটিউটের  নেতৃত্বে গবেষকরা বলেছেন শরীর-মন সুস্থ রাখার জন্য  দরকার ভালোবাসা । অর্থাৎ ভালোবাসলেই ভালো ভাবে বসবাস করা যাবে।

দুটি গবেষণায় দেখা গেছে যে ব্যক্তিরা জীবনের প্রতিটা দিন  অনেক বেশি ভালোবাসা পায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্য , যারা ভালোবাসা পায়না বা কম ভালোবাসা পায় তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি ভালো থাকে।আবার, কম ভালোবাসা পাওয়া মানুষগুলোর স্নায়ুর বিকাশও ঠিকমত হয়না।

মানব উন্নয়ন ও পারিবারিক অধ্যয়নের সহকারী  এবং আইসিডিএস অনুষদের সহকারী জিতা ওরাভেকস বলেছেন “যখন আমরা ভালোবাসার মধ্যে থাকি তখন আমাদের চিন্তা ভাবনা অনেক বিস্তৃত থাকে। ভালোবাসার রোম্যান্সের চেয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে ভালোবাসা অনুভব করা অনেক বেশি মানসিক শান্তির।

গবেষকদের মতে “ফিলিং লাভ” বা ভালোবাসা অনুভব করতে পারাটাই আসল বিষয়। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে বা যেভাবেই হোক যদি কেউ বুঝতে পারে তাকে ভালোবাসা হচ্ছে তাহলে সেই অনুভূতিটাই অনেক শক্তিশালী অনুভূতি হিসেবে কাজ করে ভালো থাকার জন্য ।

ওরাভেকস বলেছিলেন, “অনুভূতি যুক্ত ভালোবাসায় মননশীলতার বিকাশ ঘটে এবং এর সাথে ইতিবাচক চিন্তাশক্তি অর্জনে সাহায্য করে”।

এখন অনেক এপ্স আছে যার কাজ ভালোবাসার বিভিন্ন দিক নিয়ে রিমাইন্ডার দেয়া। যাতে করে মানুষ এই বিষয়ে আরো মনোযোগী হয়। কারণ সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের গবেষকরা দেখেছেন অনুভূতি যুক্ত ভালোবাসায় মনোযোগ বাড়লেই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সেই সাথে ভালোবাসার অনুভূতি বুঝতে পারার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

এই গবেষণার মূল হাতিয়ার ছিল স্মার্টফোন টেকনোলজি।যাতে করে প্রতিদিন মানুষের জীবন থেকে ডেটা নেয়া যায়। অধ্যাপক টিমোথ ব্রিকের নির্দেশে চার সপ্তাহে সারাদিনে ৬ টি ভালোবাসা এবং ভালো থাকা নিয়ে রিমাইন্ডারের মত প্রম্পট পাঠানো হয়েছিল ব্যবহারকারীদের থেকে ডেটা নেয়ার জন্য । এভাবে গবেষণার প্রথম ধাপে বিভিন্ন বয়সের ৫২ জন থেকে এবং দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ জন আন্ডার গ্রাজুয়েটদের থেকে ডেটা নেয়া হয়েছিল। সবসময় যেহেতু মানুষের মনের অবস্থা এক রকম থাকেনা যার কারণে সঠিক ডেটা পেতে ঝামেলা হয়েছিল।পরবর্তীতে ডিফারেন্সিয়্যাল ইকুয়েশন মডেলের মাধ্যমে এই ডেটাকে সঠিক রুপ দেয়া হয়।

এভাবে ডেটা নিয়ে দেখা যায় আমাদের মধ্যে ভালোবাসা বোধ করার এবং ভালোবাসতে পারে এরকম মানুষের খুব অভাব। হতাশা,একাকীত্বতা,রাগ,দুঃখ-কষ্ট এসব জিনিস মানুষের মধ্যে বেশি কাজ করে যার ফলে কিভাবে ভালোবাসতে হয় মানুষ তাই ভুলে গেছে।যার ফলে ভালোবাসা এবং ভালোথাকার থেকে মানুষ অনেক দূরে।

প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে যদি মানুষকে ক্রমাগতভাবে ভালোবাসার মেসেজ দিয়ে তার মোবাইলের স্ক্রিন ভরিয়ে ফেলা হয় তাহলে ভালোবাসায় মনোযোগী হওয়ার থেকে তারা বিরক্ত হবে বেশি। তাই এ ব্যপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

হৃদয় দিয়ে ভালোবাসলে হৃদয় ভালো থাকে। অর্থাৎ যারা ভালোবাসে তাদের হার্ট ভালো থাকে। হার্টের যেকোনো অসুখ থেকে তারা অনেক দূরে থাকে। শুধুমাত্র ভালোবাসা দিয়ে মানুষের ভিতরের রোগব্যাধি  যেখানে দূর করা সম্ভব সেখানে আমরা যদি ভালোবাসতেই না জানি তাহলে রোগব্যাধি আমাদের ভালোবাসতে শুরু করবে ছাড়তেই চাইবেনা। তাই ভালবাসতে জানতে হবে। শুধুমাত্র রোমাঞ্চকর ভালোবাসাই যে “ভালোবাসা” এর সংজ্ঞা না, সেটা মানুষকে বুঝাতে হবে। ভালোবাসতে শিখতে হবে অন্যকেও শিখাতে হবে কারণ ভালো থাকতে গেলে ভালো রাখতেও হবে আর ভালো রাখার জন্য দরকার “ভালোবাসা”।

(Originally posted on Medical Xpress)