A couple discussing personal experiences, illustrating intimacy in relationships study.

অন্তরঙ্গতা কমে গেলে মনের কথা শেয়ার করার প্রবণতা কমে যায়

মে ২০, ২০২৪

পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো একে অন্যের সাথে শেয়ার করলে সম্পর্কে অন্তরঙ্গতা বাড়ে এবং এতে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে কোনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইমোশনাল এট্যাচমেন্ট কমে গেলে একে অপরের সাথে সব রকম পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করার প্রবণতা কমে যায়।

ইমোশনাল এট্যাচমেন্ট পারিবারিক, রোমান্টিক এবং বন্ধুত্বের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপলব্ধি এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। গ্লোবাল এট্যাচমেন্ট ওরিয়েন্টেশন সমস্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ধারণা, প্রত্যাশা এবং আচরণগত দিকগুলো বুঝায় এবং Relationship-Specific (RS) Attachment বলতে একটি নির্দিষ্ট সম্পর্ক বুঝায় । গ্লোবাল এট্যাচমেন্ট এবং Relationship-Specific Attachment উভয়ই সম্পর্কের আচরণ এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।

গবেষকরা আমেরিকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এবং অনলাইন এর মাধ্যমে প্রায় ৬০৯ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর এই গবেষণা করেন। গবেষকরা গ্লোবাল এবং Relationship-Specific (RS) বিশিষ্ট এট্যাচমেন্ট এভয়েডান্স নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এট্যাচমেন্ট এভয়েডান্স ইমোশনাল ডিস্ট্যান্স এবং স্বনির্ভরতার মাধ্যমে একে অপরের মধ্যে মানসিক দূরত্ব বাড়ায় এবং একইভাবে একে অন্যের সাথে পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করার প্রবণতা কমায়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, এট্যাচমেন্ট এভয়েডান্স স্কেলে প্রতি এক পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলে, কাছের সম্পর্কের মধ্যে পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করার সম্ভাবনা ৬৮% কমে যায় এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষদের সাথে শেয়ার করার সম্ভাবনা কমে ২৮%।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যে সকল ব্যক্তিরা উচ্চ মাত্রায় তাদের কাছের মানুষদের সাথে এট্যাচমেন্ট এভয়েড করে তারা তাদের মনের যে কোন কথা বা ঘটনা কারও সাথে শেয়ার করতে অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করে। এছাড়া আারও দেখা গেছে ওই সকল ব্যক্তিরা নেতিবাচক ঘটনাগুলি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকে এবং শুধুমাত্র ইতিবাচক ঘটনাগুলি অন্যদের সাথে শেয়ার করাকে কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে ওই ব্যক্তিরা এটা করে যাতো অন্যরা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান বা উপহাস না করতে পারে। যার ফলে এ সকল ব্যক্তিরা সাধারণত অন্যদের থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা চায় না এবং আত্মনির্ভরশীলভাবে চ্যালেঞ্জগুলি পরিচালনা করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে।

পরিশেষে বলা যায়, এট্যাচমেন্ট আমাদের সম্পর্ক এবং আচরণকে প্রভাবিত করে। স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের গতিশীলতাকে বৃদ্ধি করার জন্য পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো একে অন্যের সাথে শেয়ার করা উচিৎ এবং এমন একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা দরকার যেখানে ব্যক্তিরা পারসোনাল এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে যা সম্পর্কের অন্তরঙ্গতা বাড়ানো এবং স্থায়ী সংযোগ গড়ে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী


তথ্যসূত্র

Sun, E. R., & Jakubiak, B. K. (2024). Attachment avoidance predicts limited and selective sharing of personal events in close relationships. Personal Relationships, 1–23. https://doi.org/10.1111/pere.12537