Antibiotic resistant E.coli bacteria

খাবার নয়, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ই-কোলাই ছড়ায়

অক্টোবর ২৮, ২০১৯

মানুষের একটা ভুল ধারণা ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া খাবার থেকে ছড়ায়। কিন্তু আঞ্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া খাবারেরে চেয়ে মূলত অস্বাস্থ্যকর  টয়লেট ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে।

আমাদের শরীরে কিছু অণুজীব এমনিতেই আছে। যেগুলো আমাদের শরীরবৃত্তীয় নানা কাজে সাহায্য করে। এদেরকে বলা হয় Normal Micro biota  ই. কোলাই নরমাল মাইক্রোবায়োটার অংশ। জন্মগ্রহণের সময় শিশুর দেহে কোনো মাইক্রোবায়োটা থাকে না। মায়ের দুধ থেকে, নার্স কিংবা আশেপাশের অন্যান্য মানুষ থেকে প্রায় হাজার ধরনের অণুজীব শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। সেই সব অনুজীবের মধ্যে ই. কোলাই অন্যতম।

ই-কোলাইয়ের বিভিন্ন প্রজাতি আছে।একেক প্রজাতির কাজ একেক রকম ।কিছু প্রজাতি শুধুমাত্র খাদ্য-বিষক্রিয়া তৈরি করে আবার কিছু প্রজাতি রক্তে বিষক্রিয়া তৈরি করে ইউট্রিয়া ইনফেকশন সহ অন্ত্রে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করে।

কিন্তু রক্তে বিষক্রিয়া করার জন্য কি কি মাধ্যমে  ই-কোলাই সংক্রমিত হয় এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আক্রান্ত মানুষের রক্তকোষ, পশু-পাখির মল-মুত্র,মানবসৃষ্ট ময়লা-আবর্জনা, গরু, মুরগি, শুয়োয়ের মাংস,ফলমুল,সবজি থেকে ই-কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার কিছু জিনোম নিয়ে পরিক্ষা  শুরু করা হয়।

এই পরিক্ষার ফলাফল লেখা হয় (Escherichia coli causing bloodstream and other extraintestinal infections: tracking the next pandemic, 2019) “দ্যা ল্যানসেট ইনফেকসাস ডিজিজেজ” জার্নালে। । জীনোম পরিক্ষা করে দেখা যায় যেগুলো মানুষের সাথে সম্পৃক (মানুষের মল-মূত্র ময়লা-আবর্জনা) সেগুলোর জন্য সিকুয়েন্স টাইপ ১৩১ (ST131) ই-কোলাই দায়ী কিন্তু পশু-পাখির মাংসে (মুরগীর,গরু) সিকুয়েন্স টাইপ ১৩১ খুব কম তবে সিকুয়েন্স টাইপ ST২৩, ST১১৭, ST৬০২ এর উপস্থিতি বেশি।

ই-কোলাই কে বলা হয় “সুপারবাগ”। গত ২০ বছর ধরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া হিসেবে ই-কোলাই এর স্থান সবার উপরে আছে। এরা এক্সটেন্ডেড স্পেক্টাম বিটা-ল্যাক্টামেজ( ESBL) জাতীয় একধরনের এনজাইম তৈরি করে যার কাজ এন্টিবায়োটিক কে প্রতিরোধ করা।

নরউইচ মেডিকেল স্কুলের প্রফেসর ড্যাভিড লিভারমোর বলেছেন সুস্থ মানুষ এবং পশুপাখির অন্ত্রে ই-কোলাই কোনো প্রকার ক্ষতি করা ছাড়াই থাকে। কিন্তু এর ভিন্ন প্রজাতি গুলো ক্ষতিকর। ইংল্যান্ডে প্রতিবছর চল্লিশ-হাজারেরেও বেশি মানুষের রক্তে বিষক্রিয়া তৈরি হয় এই ই-কোলাই এর মাধ্যমে। এর মধ্য ১০ শতাংশ এক্সটেন্ডেড স্পেক্টাম বিটা-ল্যাক্টামেজ  ESBLs  এনজাইমের কারনে হয় যা  ঔষধ কে কাজ করতে দেয়না ।ফলে মৃত্যুর হার বেড়েই চলছে।

যুক্তরাজ্যের পাঁচটি (London, East Anglia, Northwest England, Scotland and Wales) দেশ থেকে মানব-বর্জ্য, পশুপাখির মল-মূত্র নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের সাথে তুলনা করা হয়। এই রক্ত নেয়া হয় নেদারল্যান্ডের NHS ল্যাবটারি থেকে। 

 এই পাঁচটি দেশের প্রায় ২০ হাজার মলের মধ্যে নয় শতাংশতে ESBL এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে কিন্তু শুধুমাত্র লন্ডনে এই হার ১৭ শতাংশ। মুরগিতে ৬৫শতাংশ, খুব অল্প শতাংশ কিছু গরু এবং শুকরে কিন্তু ফল-সবজি তে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।এর ই সাথে দেখা গেছে মানুষের মলে উপস্থিত ই-কোলাই এর টাইপের সাথে আক্রান্ত ব্যাক্তির রক্তের ই-কোলাই এর টাইপের কোনো মিল নেই।

এর সংক্রমন মল-মুত্র থেকে সরাসরি মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। কাঁচা মাংস, সবজি থেকেও এই ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তাই রান্নার সময় এগুলো ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে। এবং টয়লেট ব্যবহারের পরে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য ডিপারটমেন্ট এর প্রফেসর নীল উডফোর্ড বলেছেন এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধি ব্যাকটেরিয়া কে প্রতিরোধ করার জন্য হাত ধোয়ার অভ্যাস এবং ইউটিয়াই(UTI) বিষয়ক রোগব্যাধি যাতে না হয় সেইজন্য পরিষ্কার-পরিছন্ন থাকলে এর প্রতিরোধ সমভব।

এন্টিবডি সম্পন্ন দেহ মানুষ এবং পশু-পাখি উভয়ের জন্যই প্রয়োজন । কিছু এন্টিবডি মানব দেহে জন্ম থেকেই থাকে কিন্তু বিভিন্ন রোগব্যাধি কে প্রতিহিত করতে বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের এন্টিবায়োটিক দেহে প্রবেশ করানো হয়। কিন্তু ই-কোলাই এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধি ব্যাকটেরিয়া । ই-কোলাই দেহের এন্টিবডি কে ভেংগে বাইরে থেকে প্রবেশক্রিত এন্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নস্ট করে দিয়ে সাচ্ছন্দে রোগ-ব্যাধি ছড়াচ্ছে। এই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমন থেকে বাঁচার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

Originally posted on Medical Express

References:

Antibiotic resistance—the interplay between antibiotic use in animals and human beings. (2003). The lancet infectious diseases, 47-51.

Escherichia coli causing bloodstream and other extra intestinal infections: tracking the next pandemic. (2019). the lancet infectious Diseases.