গ্রাফিক এবং ভিজুয়াল ডিজাইনার এর চাহিদা বিশ্বব্যাপী

আগস্ট ৩০, ২০১৫

আলাল ও দুলাল এর ছোট্ট বেলা থেকেই আঁকাআঁকিতে দারুণ ঝোক। অন্যেরা যখন আকাশে শুধু মেঘ দেখে তারা তখন সেখানে আবিষ্কার করে রাজা-রাণী আর তাদের রাজপ্রাসাদ, বাঘ-ভাল্লুক, হাতি-ঘোড়া সহ আরো কত কি। ডিজাইনারের চোখ বলে কথা! তাদের দুইজনই বড় হয়ে ডিজাইনার হবে। দারুণ দারুণ সব ডিজাইন করে তাক লাগিয়ে দিবে আসেপাশে! ভিঞ্চি সাহেব মোনালিসা না এঁকে ফেললে হয়ত তারাও এই লাইনে কিছু চেষ্টা নিতে পারত। আফসোস! মোনালিসা আঁকা হয়ে গেছে!

যাই হোক, শুধু স্বপ্ন দেখেই তারা বসে নেই। সে অনুযায়ী প্রচুর প্র্যাক্টিসও তারা করছিল। তাদের কাজের মধ্যে একটা বড় রকমের পার্থক্য ছিল। আলাল ডিজাইন করত কাগজ-পেন্সিল, রঙ-তুলি এসব দিয়ে। আর দুলাল কাজ করত কম্পিউটারে ফটোশপ-ইলাস্ট্রেটর টাইপের সফটওয়্যার দিয়ে।

তারা আলাদা আলাদা ভাবে ডিজাইনারের কাজ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু বাস্তব জীবনে আলাল গিয়ে দেখল শুধু খাতা-কলম বা রঙতুলির কাজ জানলেই চাকরি বা কাজ পাওয়া যায় না। সেগুলোকে ডিজিটাল রূপ দেয়ার টুলস সম্পর্কেও জানতে হয়। ফটোশপ-ইলাস্ট্রেটরের মত সফটওয়্যার ব্যবহার না জানলে চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। অপর দিকে দুলাল দেখল শুধু সফটওয়্যার ব্যবহার করতে জানলেই হয় না। হাতে কলমে স্কেচ ও ড্রয়িংয়েরও দরকার হয়। কারণ একজন ভাল ডিজাইনার শুরুতেই কম্পিউটারে ডিজাইন করতে বসে যান না। আগে তাকে পেপারওয়ার্ক করতে হয়।”

গল্পের আলাল-দুলাল একটা কাল্পনিক চরিত্র হলেও এদেরকে কিন্তু আমরা সবাই চিনি। আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য আলাল-দুলালেরা ঘোরাফেরা করেন। অনেকেই আছেন যারা হাতে Design করতে পারেন কিন্তু কম্পিউটারে পারেন না আবার অনেকেই আছেন যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতেই বুঝেন Photoshop আর Illustrator। কিন্তু বাস্তব জীবনে এই দুটির সমন্বয়েই গড়ে ওঠেন একজন ভাল ডিজাইনার।

সত্যিকারার্থেই যদি কেউ ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে তাকে নিজের ইচ্ছাকে দৃঢ় করতে হবে একই সাথে নিজের উপর রাখতে হবে বিশ্বাস। এরপরের কাজটা হবে কাগজে স্কেচ বা ড্রয়িং প্র্যাক্টিস করা। কারণ ডিজাইনারের মনে থাকা ডিজাইনটাকে হাতে এঁকে প্রকাশ করা তার জন্য সহজ। নিজের ইচ্ছা মত কাগজের উপর আঁকিবুকি দেয়া যায়, কাটাছেড়া করা যায়। তাই একটা ডিজাইনের প্রথম ধাপটি হওয়া উচিত কাগজে ডিজাইনটাকে মুটামুটি ভাবে দাঁড় করানো। এই ড্রয়িং এর সাথে তাকে চালিয়ে যেতে হবে ডিজাইন কনসেপ্ট ও ডিজাইনের বিভিন্ন থিওরি (তত্ত্ব) সম্পর্কে জ্ঞানার্জন। অন্যের ডিজাইন দেখতে হবে, পৃথিবীর সেরা সেরা ডিজাইনগুলো সম্পর্কে পড়াশোনা করতে হবে। ডিজাইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ম্যাগাজিন বা ওয়েবসাইটে সময় দেয়াটাও ডিজাইনার হবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাগজে-কলমে স্কেচ করতে পারার তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানলাভের পরে সুবিধাজনক ও পছন্দ মত কোন একটা ডিজাইনিং সফটওয়্যার সম্পর্কে জানতে হবে। এতদিন তিনি তার মনের যে ভাবগুলো কাগজে এঁকে প্রকাশ করতেন এখন সেই ডিজাইনগুলোকে ডিজিটাল রূপ দেয়া শিখবেন। এই কটা কাজ যদি কেউ সঠিক ভাবে শেষ করেন তাহলেই বলা যাবে গ্রাফিক্স ডিজাইনার হবার ক্ষেত্রে তার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয়েছে।

ডিজাইনিং পুরোপুরিই একটা সৃজনশীল ও ব্যবহারিক কাজ। তাই এটা হাতে-কলমে শেখার কোন বিকল্প নাই। উপরের কাজগুলোর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেয়ার জন্য ইউজারহাবে রয়েছে CERTIFIED GRAPHIC & VISUAL DESIGNER (CGVD) নামের একটি কোর্স। চার মাস ব্যাপী এই কোর্সে থাকছে ডিজাইনের ইতিহাস ও তার মূলনীতি, ফ্রি হ্যান্ড স্কেচিং, কালার থিওরি, টাইপোগ্রাফি, ডিজিটাল গ্রাফিক্স সহ আরো বেশ কিছু বিষয়। ডিজাইনার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য কোর্সটি হতে পারে প্রথম পদক্ষেপ। কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ঘুরে আসতে পারেন এই ঠিকানায়ঃ CGVD

বৈচিত্রময় এই ডিজাইনিং পেশায় শুধু Graphic Designer কাজ করেন তা নয়। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার পরবর্তীতে নিজেকে গড়তে পারেন User Interface  ডিজাইনার হিসেবে। আরো দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের পর হতে পারেন ভিজুয়াল ডিজাইনার। সবশেষে User Experience বা ইউএক্স এক্সপার্ট হওয়ার মাধ্যমে তিনি হতে পারেন ডিজাইনিং টিমের প্রধান।

ডিজাইনার হিসেবে আপনার এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য রইল শুভ কামনা।

Tech Analyst – Techmorich